কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI নিয়ে আজকাল অনেক আলোচনা। কেউ বলছেন, AI ডাক্তারদের জায়গা নেবে। কেউ বলছেন, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ কারও চাকরিই নিরাপদ নয়। প্রযুক্তির এই দ্রুত অগ্রগতিতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণও আছে। কারণ AI ইতোমধ্যে ছবি আঁকছে, কোড লিখছে, রিপোর্ট তৈরি করছে, এমনকি মানুষের মতো কথাও বলছে।
কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, কিছু পেশা আছে যেগুলো AI কোনোদিনই নিতে পারবে না।
কারণ এসব পেশার মূল শক্তি দক্ষতা নয়, তথ্য নয়, এমনকি যুক্তিও নয়। এগুলোর ভিত্তি হলো সম্পর্ক, অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক, আর সিস্টেমের ফাঁকফোকর সম্পর্কে গভীর জ্ঞান।
ধরুন, একজন বিবাহবিচ্ছেদ-অফিসের দালাল। AI হয়তো আপনাকে আইনের ধারা বুঝিয়ে দিতে পারবে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা দিতে পারবে, এমনকি আবেদনপত্রও পূরণ করে দিতে পারবে। কিন্তু AI কখনো সেই ভদ্রলোক হতে পারবে না, যিনি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে বলবেন, “ভাই, প্রথমবার আসছেন মনে হয়? আমারে দেন, সব আমি করে দিচ্ছি।”
এটা শুধু তথ্যের ব্যাপার নয়। এটা মানুষের অনিশ্চয়তা, ভয় এবং অস্থিরতাকে বুঝে সেখানে জায়গা করে নেওয়ার এক বিশেষ সামাজিক দক্ষতা।
একই কথা প্রযোজ্য পাসপোর্ট অফিসের দালালের ক্ষেত্রেও। আদর্শ পৃথিবীতে AI-ই যথেষ্ট হওয়ার কথা। অনলাইনে আবেদন, ডিজিটাল যাচাই, স্বয়ংক্রিয় প্রসেসিং সবই সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশি বাস্তবতায় মানুষের প্রথম প্রশ্ন প্রায়ই হয়, “ভাই, শর্টকাট কোনো উপায় আছে?”
AI-এর সমস্যা হলো, সে নিয়ম মেনে চলে। আর আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠান এমনভাবে গড়ে উঠেছে যেখানে নিয়ম জানার চেয়ে “কাকে চেনেন” প্রশ্নটা কখনো কখনো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
হাসপাতালের দালালদের কথাও ভাবুন। একজন রোগীর পরিবার যখন আতঙ্কিত, বিভ্রান্ত এবং অসহায়, তখন AI হয়তো তথ্য দিতে পারবে। কিন্তু সেই সুযোগে কে কোথায় নিয়ে যাবে, কোন টেস্ট করাবে, কোন কেবিনে ভর্তি করাবে এই পুরো অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির অংশ হওয়া AI-এর পক্ষে সম্ভব নয়।
কারণ AI অ্যালগরিদম বোঝে, কিন্তু “ব্যবস্থা করে দেওয়া” নামক সাংস্কৃতিক ধারণাটা বোঝে না।
মজার বিষয় হলো, প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ততই আমরা বুঝতে পারছি যে মানুষের কিছু আচরণ প্রযুক্তিগত নয়, সামাজিক। সেখানে দক্ষতার চেয়ে সম্পর্ক বেশি মূল্যবান, আর নিয়মের চেয়ে অনিয়ম বেশি কার্যকর।
তাই AI হয়তো একদিন আমাদের জন্য প্রবন্ধ লিখবে, গাড়ি চালাবে, রোগ নির্ণয় করবে, আদালতের নথি বিশ্লেষণ করবে। কিন্তু বাংলাদেশের কিছু পেশা এখনো নিরাপদ।
কারণ সেগুলো কোনো চাকরি নয়; সেগুলো আসলে একটি সমান্তরাল প্রতিষ্ঠান।
এবং পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী AI-ও সম্ভবত এখনো শিখে উঠতে পারেনি, কীভাবে কারও কাঁধে হাত রেখে বলতে হয়,
“ভাই, চিন্তা করেন না। আমার লোক আছে।”
AI বাংলাদেশের যে চাকরিগুলো খেতে পারবে না
RP Thinkers
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI নিয়ে আজকাল অনেক আলোচনা। কেউ বলছেন, AI ডাক্তারদের জায়গা নেবে। কেউ বলছেন, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ কারও চাকরিই নিরাপদ নয়। প্রযুক্তির এই দ্রুত অগ্রগতিতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণও আছে। কারণ AI ইতোমধ্যে ছবি আঁকছে, কোড লিখছে, রিপোর্ট তৈরি করছে, এমনকি মানুষের মতো কথাও বলছে।
কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, কিছু পেশা আছে যেগুলো AI কোনোদিনই নিতে পারবে না।
কারণ এসব পেশার মূল শক্তি দক্ষতা নয়, তথ্য নয়, এমনকি যুক্তিও নয়। এগুলোর ভিত্তি হলো সম্পর্ক, অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক, আর সিস্টেমের ফাঁকফোকর সম্পর্কে গভীর জ্ঞান।
ধরুন, একজন বিবাহবিচ্ছেদ-অফিসের দালাল। AI হয়তো আপনাকে আইনের ধারা বুঝিয়ে দিতে পারবে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা দিতে পারবে, এমনকি আবেদনপত্রও পূরণ করে দিতে পারবে। কিন্তু AI কখনো সেই ভদ্রলোক হতে পারবে না, যিনি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে বলবেন, “ভাই, প্রথমবার আসছেন মনে হয়? আমারে দেন, সব আমি করে দিচ্ছি।”
এটা শুধু তথ্যের ব্যাপার নয়। এটা মানুষের অনিশ্চয়তা, ভয় এবং অস্থিরতাকে বুঝে সেখানে জায়গা করে নেওয়ার এক বিশেষ সামাজিক দক্ষতা।
একই কথা প্রযোজ্য পাসপোর্ট অফিসের দালালের ক্ষেত্রেও। আদর্শ পৃথিবীতে AI-ই যথেষ্ট হওয়ার কথা। অনলাইনে আবেদন, ডিজিটাল যাচাই, স্বয়ংক্রিয় প্রসেসিং সবই সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশি বাস্তবতায় মানুষের প্রথম প্রশ্ন প্রায়ই হয়, “ভাই, শর্টকাট কোনো উপায় আছে?”
AI-এর সমস্যা হলো, সে নিয়ম মেনে চলে। আর আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠান এমনভাবে গড়ে উঠেছে যেখানে নিয়ম জানার চেয়ে “কাকে চেনেন” প্রশ্নটা কখনো কখনো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
হাসপাতালের দালালদের কথাও ভাবুন। একজন রোগীর পরিবার যখন আতঙ্কিত, বিভ্রান্ত এবং অসহায়, তখন AI হয়তো তথ্য দিতে পারবে। কিন্তু সেই সুযোগে কে কোথায় নিয়ে যাবে, কোন টেস্ট করাবে, কোন কেবিনে ভর্তি করাবে এই পুরো অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির অংশ হওয়া AI-এর পক্ষে সম্ভব নয়।
কারণ AI অ্যালগরিদম বোঝে, কিন্তু “ব্যবস্থা করে দেওয়া” নামক সাংস্কৃতিক ধারণাটা বোঝে না।
মজার বিষয় হলো, প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ততই আমরা বুঝতে পারছি যে মানুষের কিছু আচরণ প্রযুক্তিগত নয়, সামাজিক। সেখানে দক্ষতার চেয়ে সম্পর্ক বেশি মূল্যবান, আর নিয়মের চেয়ে অনিয়ম বেশি কার্যকর।
তাই AI হয়তো একদিন আমাদের জন্য প্রবন্ধ লিখবে, গাড়ি চালাবে, রোগ নির্ণয় করবে, আদালতের নথি বিশ্লেষণ করবে। কিন্তু বাংলাদেশের কিছু পেশা এখনো নিরাপদ।
কারণ সেগুলো কোনো চাকরি নয়; সেগুলো আসলে একটি সমান্তরাল প্রতিষ্ঠান।
এবং পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী AI-ও সম্ভবত এখনো শিখে উঠতে পারেনি, কীভাবে কারও কাঁধে হাত রেখে বলতে হয়,
“ভাই, চিন্তা করেন না। আমার লোক আছে।”
Author
THE COMPANY THAT ACCIDENTALLY BECAME THE INTERNET’S ENGINE ROOM
The Jobs AI Can Never Replace in Bangladesh
Trending
ICT Syndicate Remains Unchanged Despite Power Shift: Is the New Center of Power Trapped in the Political Net of the Hasina-Joy and Palak-Sami Axis?
How Artificial Intelligence Changed the Way I Learn
Artificial Intelligence in Education: a Tool, Not a Replacement
Global Inflation Stalls as War and Oil Prices Collide With a Tech-Driven Boom
Why Bangladesh Should Introduce Complementary Military Training in Its Education System
How Bangladeshi Freelancers Are Secretly Building the AI Revolution
Popular
ICT Syndicate Remains Unchanged Despite Power Shift: Is the New Center of Power Trapped in the Political Net of the Hasina-Joy and Palak-Sami Axis?
How Artificial Intelligence Changed the Way I Learn
Artificial Intelligence in Education: a Tool, Not a Replacement
Global Inflation Stalls as War and Oil Prices Collide With a Tech-Driven Boom
ICT Syndicate Remains Unchanged Despite Power Shift: Is the New Center of Power Trapped in the Political Net of the Hasina-Joy and Palak-Sami Axis?
How Artificial Intelligence Changed the Way I Learn
Artificial Intelligence in Education: a Tool, Not a Replacement
Global Inflation Stalls as War and Oil Prices Collide With a Tech-Driven Boom
Why Bangladesh Should Introduce Complementary Military Training in Its Education System
How Bangladeshi Freelancers Are Secretly Building the AI Revolution
Sci-Hub and Alexandra Elbakyan
An Important Website for Researcher Awareness
The End of an Era? Why OpenAI’s New ‘Jalapeño’ Chip is a Direct Strike at Nvidia’s AI Throne
Digital Imperialism: Our Data, Their Empire
Tax Amnesty: A Practical Solution or a Moral Compromise?
A Critical Overview of Capitalism in Karl Marx’s Das Kapital
Bangladesh Turns to China and Malaysia in Push to Tackle Joblessness
The Stolen Star: How FIFA and Rizzoli Robbed Argentina in the Maracanã
Italy’s Long ‘Exile’ and a Sustained Footballing Tragedy
The Comprehensive Guide to Data Science: Transforming the Digital World
Why Didn’t ‘Roid’ Become a Film for the Mass Audience?
Which is Easier, Becoming an Entrepreneur or an Employee?
An Important Website for Researcher Awareness
The End of an Era? Why OpenAI’s New ‘Jalapeño’ Chip is a Direct Strike at Nvidia’s AI Throne
Digital Imperialism: Our Data, Their Empire
Tax Amnesty: A Practical Solution or a Moral Compromise?
A Critical Overview of Capitalism in Karl Marx’s Das Kapital
Searching for Truth in the Flood of Information: Why Epistemology Matters More Than Ever