সম্প্রতি ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা অদ্ভুত কিন্তু খুব শক্তিশালী নামের মুভমেন্ট ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল, Cockroach Janta Party বা সংক্ষেপে CJP। নামটা শুনলে প্রথমে হাসি পেলেও, এর পিছনে লুকিয়ে আছে আজকের ভারতের লক্ষ লক্ষ যুবকের গভীর ক্ষোভ, হতাশা আর প্রতিবাদ। মাত্র ৭-১০ দিনের মধ্যে এই মুভমেন্টটা এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে সরকারকেও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
সবকিছুর শুরু হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এর একটা মন্তব্য থেকে। একটি মামলার শুনানিতে তিনি কয়েকজন যুবককে “Cockroaches” বলে সম্বোধন করেন। এই কথাটা অনেক যুবকের কাছে খুবই অপমানজনক লেগেছে। তারা মনে করেছে, তাদের বেকারত্ব, হতাশা আর সংগ্রামকে এভাবে অপমান করা হয়েছে। ঠিক এই সময়ে বোস্টনে বসবাসকারী ৩০ বছর বয়সী তরুণ অভিজিৎ দিপকে এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে Cockroach Janta Party নামে একটা ওয়েবসাইট আর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলেন।
তিনি নিজেকে এই মুভমেন্টের ফাউন্ডার হিসেবে ঘোষণা করেন এবং বলেন, এটা “অলস ও বেকার যুবকদের কণ্ঠস্বর”। তাদের পোস্টগুলো ছিল একদম অন্যরকম। তীব্র ব্যঙ্গ, মজার মিম, আর সরাসরি সরকার ও প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা। NEET পেপার লিক, চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম, শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা, বেকারত্বের সমস্যা ইত্যাদি ইস্যুতে তারা এমনভাবে কথা বলছিল যে যুবকরা দলে দলে যোগ দিতে শুরু করে। ইনস্টাগ্রামে মাত্র কয়েকদিনেই তাদের ফলোয়ার সংখ্যা ২ কোটিরও বেশি হয়ে যায়।
তাদের ম্যানিফেস্টোতে বেশ কিছু স্পষ্ট দাবি ছিল। যেমন : জজদের পোস্ট-রিটায়ারমেন্ট সুবিধা বন্ধ করা, নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ রিজার্ভেশন, স্বাধীন মিডিয়ার পক্ষে কথা বলা, রাজনৈতিক নেতাদের দলবদলের উপর ২০ বছরের নিষেধাজ্ঞা, আর NEET-এর মতো পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি। এসব দাবি যুব সমাজের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
কিন্তু এই দ্রুত উত্থান সরকারের পছন্দ হয়নি। হঠাৎ করেই তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্লক করে দেওয়া হয় এবং X (টুইটার) অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে এটা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং Intelligence Bureau-এর রিপোর্টের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, তিনি ও তার পরিবারকে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন। এখন তিনি দিল্লি হাইকোর্টে অ্যাকাউন্ট আনব্লক করার জন্য মামলা করেছেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও এসেছে দুই দিক থেকে। বিজেপি এই মুভমেন্টকে “বিদেশি ষড়যন্ত্র” এবং “বিরোধীদের মদদপুষ্ট” বলে আক্রমণ করেছে। তারা বলছে, এটা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেছেন, গণতন্ত্রে ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা আর যুবকদের ক্ষোভ প্রকাশের জায়গা থাকা উচিত। তিনি এই ক্ষোভকে সঠিক চ্যানেলে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
আসলে Cockroach Janta Party কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়। এটা কোনো নির্বাচনে লড়বে না। এটা শুধুমাত্র যুবকদের জমে থাকা দীর্ঘদিনের হতাশা আর রাগের একটা ব্যঙ্গাত্মক প্রকাশ। কিন্তু এর এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এবং সরকারের এত তাড়াতাড়ি দমন করা। দুটো ঘটনাই আজকের ভারতে যুব সমাজের অবস্থা এবং ডিজিটাল রাজনীতির বাস্তবতা কতটা সংবেদনশীল তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টি কী? যুবকদের ক্ষোভের ভাইরাল মুভমেন্টের পুরো ঘটনা
By
RP Thinkers
Share
সম্প্রতি ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা অদ্ভুত কিন্তু খুব শক্তিশালী নামের মুভমেন্ট ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল, Cockroach Janta Party বা সংক্ষেপে CJP। নামটা শুনলে প্রথমে হাসি পেলেও, এর পিছনে লুকিয়ে আছে আজকের ভারতের লক্ষ লক্ষ যুবকের গভীর ক্ষোভ, হতাশা আর প্রতিবাদ। মাত্র ৭-১০ দিনের মধ্যে এই মুভমেন্টটা এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে সরকারকেও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
সবকিছুর শুরু হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এর একটা মন্তব্য থেকে। একটি মামলার শুনানিতে তিনি কয়েকজন যুবককে “Cockroaches” বলে সম্বোধন করেন। এই কথাটা অনেক যুবকের কাছে খুবই অপমানজনক লেগেছে। তারা মনে করেছে, তাদের বেকারত্ব, হতাশা আর সংগ্রামকে এভাবে অপমান করা হয়েছে। ঠিক এই সময়ে বোস্টনে বসবাসকারী ৩০ বছর বয়সী তরুণ অভিজিৎ দিপকে এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে Cockroach Janta Party নামে একটা ওয়েবসাইট আর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলেন।
তিনি নিজেকে এই মুভমেন্টের ফাউন্ডার হিসেবে ঘোষণা করেন এবং বলেন, এটা “অলস ও বেকার যুবকদের কণ্ঠস্বর”। তাদের পোস্টগুলো ছিল একদম অন্যরকম। তীব্র ব্যঙ্গ, মজার মিম, আর সরাসরি সরকার ও প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা। NEET পেপার লিক, চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম, শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা, বেকারত্বের সমস্যা ইত্যাদি ইস্যুতে তারা এমনভাবে কথা বলছিল যে যুবকরা দলে দলে যোগ দিতে শুরু করে। ইনস্টাগ্রামে মাত্র কয়েকদিনেই তাদের ফলোয়ার সংখ্যা ২ কোটিরও বেশি হয়ে যায়।
তাদের ম্যানিফেস্টোতে বেশ কিছু স্পষ্ট দাবি ছিল। যেমন : জজদের পোস্ট-রিটায়ারমেন্ট সুবিধা বন্ধ করা, নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ রিজার্ভেশন, স্বাধীন মিডিয়ার পক্ষে কথা বলা, রাজনৈতিক নেতাদের দলবদলের উপর ২০ বছরের নিষেধাজ্ঞা, আর NEET-এর মতো পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি। এসব দাবি যুব সমাজের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
কিন্তু এই দ্রুত উত্থান সরকারের পছন্দ হয়নি। হঠাৎ করেই তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্লক করে দেওয়া হয় এবং X (টুইটার) অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে এটা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং Intelligence Bureau-এর রিপোর্টের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, তিনি ও তার পরিবারকে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন। এখন তিনি দিল্লি হাইকোর্টে অ্যাকাউন্ট আনব্লক করার জন্য মামলা করেছেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও এসেছে দুই দিক থেকে। বিজেপি এই মুভমেন্টকে “বিদেশি ষড়যন্ত্র” এবং “বিরোধীদের মদদপুষ্ট” বলে আক্রমণ করেছে। তারা বলছে, এটা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেছেন, গণতন্ত্রে ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা আর যুবকদের ক্ষোভ প্রকাশের জায়গা থাকা উচিত। তিনি এই ক্ষোভকে সঠিক চ্যানেলে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
আসলে Cockroach Janta Party কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়। এটা কোনো নির্বাচনে লড়বে না। এটা শুধুমাত্র যুবকদের জমে থাকা দীর্ঘদিনের হতাশা আর রাগের একটা ব্যঙ্গাত্মক প্রকাশ। কিন্তু এর এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এবং সরকারের এত তাড়াতাড়ি দমন করা। দুটো ঘটনাই আজকের ভারতে যুব সমাজের অবস্থা এবং ডিজিটাল রাজনীতির বাস্তবতা কতটা সংবেদনশীল তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
Author
From Parliament to Facebook War: BNP–NCP Conflict Turns Ugly
What is Cockroach Janta Party? The Full Story of the Viral Youth Anger Movement
Popular News
What is Cockroach Janta Party? The Full Story of the Viral Youth Anger Movement
From Parliament to Facebook War: BNP–NCP Conflict Turns Ugly
Public Servants: Serving the State or the Party ?
The Forty Rules of Love: Spiritual Enlightenment or Romantic Idealism?
What is Cockroach Janta Party? The Full Story of the Viral Youth Anger Movement
From Parliament to Facebook War: BNP–NCP Conflict Turns Ugly
Public Servants: Serving the State or the Party ?
The Forty Rules of Love: Spiritual Enlightenment or Romantic Idealism?
The Loving Father Behind the Rebel Poet
Before 1971, Fazlul Huq Already Knew Pakistan Would Fail